মোদির রাজ্যে দলিতকে পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও টুইট করলেন জিগনেশ মেওয়ানি

মোদির রাজ্যে দলিতকে পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও টুইট করলেন জিগনেশ মেওয়ানি

ওয়েব সংবাদ : কারখানার মালিকের নির্দেশে দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হল রাজকোটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ভিডিওটি। দলিত নেতা জিগনেশ মেওয়ানি সেই ভিডিওটি টুইটারে শেয়ার করে তীব্র নিন্দা করেছেন। গুজরাটে দলিতদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। গুজরাটের কংগ্রেস সভাপতি অমিত চাভদা প্রথম ভিডিওটি শেয়ার করেন। তিনিই টুইটে লিখেছিলেন কারখানার বর্জ্য সংগ্রহ করে মুকেশ বনিয়া নামে এই দলিত যুবক। তাঁকে চোর সন্দেহে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মুকেশের স্ত্রীকেও মারধর করা হয়েছে। 
তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারখানারই তিন কর্মী এই মারধরের ঘটনায় জড়িত বলে খবর। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, দলিত এক যুবককে কারখানার গেটে বেঁধে রেখেছেন একজন। অন্য একজন লাঠি দিয়ে মারছেন। পরে আরও একজন লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করে। মুকেশ বনিয়া নামে ওই দলিত যুবক ঘটনাস্থলে মারা যায়। সূত্রের খবর তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করা হয়েছে ওই কারখানায়। ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারপরেই ভিডিওটি শেয়ার করে জিগনেশ মেওয়ানি টুইটে লিখেছেন, এই ভিডিও–ই বলে দিচ্ছে গুজরাটে দলিতরা কতটা নিরাপদ।
লামডিংয়ে নন্দিনী’র বার্ষিক সম্মেলন : মুখপত্র ‘অস্মিতা' উদ্বোধন

লামডিংয়ে নন্দিনী’র বার্ষিক সম্মেলন : মুখপত্র ‘অস্মিতা' উদ্বোধন


স্বপন দাস, লামডিং : 
লামডিঙের মহিলা পরিচালিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘নন্দিনী’র বার্ষিক সম্মেলন সহ বইমেলার শুভ উদ্বোধন হলাে গত ১৮ মে। ১৮ মে থেকে ২০ মে অবধি চলা এই সমারােহের শুরু হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জ্যোতিপ্ৰসাদ এবং ভূপেন হাজরিকার প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য প্রদান এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। এতে অংশ নেন হরুংফার নামঘরের ‘গােপিনী সংঘ’-এর সদস্যবৃন্দ। সমবেত উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন তাপসী বরুয়ার পরিচালনায় নন্দিনীর সদস্যবৃন্দ। দিহা নাম’ পরিবেশন করেন পূর্ণিমা সনােয়লের পরিচালনায় গােপিনী সংঘের সদস্যরা। 
নিউকলােনি বয়েজ ক্লাবের বিদ্যাসাগর মঞ্চের আয়ােজিত সমারােহের পরবর্তী অনুষ্ঠান হিসাবে ছিল বইমেলার উদ্বোধন। বইমেলা প্রাঙ্গণে কলকাতা, ত্রিপুরা এবং লামডিঙের প্রকাশন সংস্থা সমূহের স্টল উদ্বোধন করেন ‘ঘরােয়া’র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার অনুপ কুমার দাস, এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের বিভাগীয় সম্পাদক সমীর লােধ, বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি মঞ্চের সম্পাদক ভােলানাথ চক্রবর্তী, ঋষি অরবিন্দ অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ লক্ষণ রায়, গুরুকুলের শিক্ষিকা শম্পা লােখ। বই কেন পড়বাে, বই পাঠের আনন্দ উপযােগিতা নিয়ে ভাষণ দেন বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি অনিমেষ মজুমদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ‘নন্দিনী’র সভানেত্রী জয়শ্রী আচার্য। 


একই দিন বিকালে নন্দিনী সংস্থার মুখপত্র ‘অস্মিতা'র উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া শিশুদের শৈশব অসুরক্ষিত কেন' শীর্ষক আলােচনায় শিশু শ্রম, পড়াশুনােয় শিশুদের উপর অত্যধিক চাপ ইত্যাদি নিয়ে জ্ঞান গর্ভ আলােচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট কবি, সহিত্যিক এবং গবেষকগণ। উপরােক্ত অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কলকাতার কবি দেবকিশাের চক্রবর্তী, ত্রিপুরা থেকে আগত কবি, প্রাবন্ধিকদের মধ্যে গােবিন্দ ধর, অশােকানন্দ রায় বর্ধন, অভীক কুমার দে, সঞ্জীব দে ও গােপালচন্দ্র দাস। 
অনুষ্ঠানের তিনদিন আবৃত্তি, ছড়া, সংগীত, নৃত্য এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযােগিতা ছাড়াও দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে ছিল কলকাতার ‘দিলদরিয়া সংস্থার লােকগীতি। ২০ মে-র আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান - নাটক ‘নটী বিনােদিনী'। বিভিন্ন দিনে সঞ্চালনা ও পরিচালনায় নন্দিনীর সদস্যদের ছিলেন তনুশ্রী আচার্য, অরুণা দে দাস, রিক্তা লােধ, শান্তু পাল, সুজাতা চক্রবর্তী, রেখারানি দাস, পায়েল পাল, দীক্ষা লােধ, সঞ্জু মালাকার, নিভা চক্রবর্তী এবং অন্যান্যরা।


রাজকীয় পোশাকে রাজকুমার হ্যারি–মেগনার বিয়েতে প্রিয়াঙ্কা

রাজকীয় পোশাকে রাজকুমার হ্যারি–মেগনার বিয়েতে প্রিয়াঙ্কা

ওয়েব সংবাদ: ‌রাজকুমার হ্যারি এবং মেগান মার্কেলের রাজকীয় বিয়েতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত হলেন বলিউডের প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। শনিবার বিয়ের আগে মেগানের অতিথি হয়ে তিনি বিয়েতে যোগ দেন। ব্রিটেনের রাজকুমার হ্যারির বিয়ে বলে কথা, তাই পোশাকও হওয়া চাই রাজকীয় এবং রুচিশীল। সেই কথাকে মাথায় রেখেই ‘‌দ্য কোয়ান্টিকো’‌ অভিনেত্রী বিয়েতে হাজির হয়েছেন একেবারেই অন্য রকমভাবে। হাল্কা বেগুনি রঙের ওয়েস্টউড স্কার্ট এবং ব্লেজারের সমন্বয়ে পিগি চপকে অসাধারণ লাগছিল। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিগি চপস খুবই এলিগান্ট একটি টুপি পরেছেন। বেশ কিছু বছর ধরে মেগনা এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে জানা যায়। এমনকী ২০১৮ সালে মেগনাকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনে প্রিয়াঙ্কা লেখাও লেখেন। যা পড়ে মুগ্ধ হন মেগনা। রাজবধূর অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা উইন্ডসর প্রাসাদের সেইন্ট জর্জেস চ্যাপেল এসে পৌঁছান। এখানেই রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠান হবে বলে জানা যাচ্ছে। বিয়ের একদিন আগেই পিগি চপস লন্ডনে আসেন। উইন্ডসর প্রাসাদ থেকে ১০ মাইল দূরে প্রিয়াঙ্কা থাকছেন বলে জানা গিয়েছে। গত মাসেই প্রিয়াঙ্কা এই বিয়ে নিয়ে খুবই উৎসাহিত বলে টাইমস ম্যাগাজিনকে জানান। প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও বিয়েতে আসবেন হলিউড সেলেব জর্জ–অমল ক্লোনি, ডেভিড এবং ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম এবং স্যার এলটন জন সহ অন্যান্যরা।
টেক্সাসের স্কুলে গুলি, নিহত ১০

টেক্সাসের স্কুলে গুলি, নিহত ১০

ওয়েব সংবাদ : ফের বন্দুকবাজের হামলায় রক্তাক্ত আমেরিকার স্কুল। এ বারের হানা টেক্সাসের সান্টা ফে হাইস্কুলে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় সময় সাড়ে সাতটা নাগাদ ওই স্কুলে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে এক বন্দুকবাজ। ঘটনায় নিহত অন্তত দশ জন। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। নিহতদের বেশির ভাগই পড়ুয়া। জখম আরও অনেকে। যার মধ্যে রয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিকও। আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় তিনটি হাসপাতালে। হ্যারিস কাউন্টির শেরিফ এড গঞ্জালভেজ় জানান, হামলাকারী সন্দেহে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে-ও পড়ুয়া বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্দেহভাজন আরও এক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে পুলিশ। স্কুল পড়ুয়া অ্যাঞ্জেলিকা মার্টিনেজ় জানায়, সকাল সকাল সবে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। এক সতীর্থের সঙ্গে বাইরে দাঁড়িয়েছিল তারা। তখনই গুলির আওয়াজ। ছুটতে শুরু করে সবাই। কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, গুলিচালনার আগেই স্কুলে অ্যালার্মের শব্দ পেয়ে পড়ুয়ারা দিশেহারা হয়ে ছুটতে শুরু করে। তবে গুলিচালনা ও অ্যালার্মের মধ্যে প্রথমে কিসের আওয়াজে বিভ্রান্ত হয় পড়ুয়ারা, তা স্পষ্ট নয়। ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই এই বন্দুক-হামলা চলছে। এই নিয়ে গত আট দিনে তৃতীয়বার বন্দুকবাজের নিশানায় মার্কিন শিক্ষাঙ্গন। চলতি বছরে স্কুলে হামলার সংখ্যা ২২। সাম্প্রতিক কালে ফ্লরিডার একটি স্কুলে বন্দুকবাজের হানায় ১৭ জন নিহত হওয়ার পরেই ভয়াবহতার তালিকায় জায়গা করে নেবে টেক্সাসের এই ঘটনা। ফ্লরিডার স্কুলে হামলার পরে মার্কিন অস্ত্র আইনে বদল আনার দাবিতে সরব হয় গোটা আমেরিকা। যার মূল উদ্যোক্তা ছিল স্কুলপড়ুয়ারাই। এখনও চোখে পড়ার মতো বদল ঘটেনি অস্ত্র আইনে।
কর্নাটকে নাক কাটা গেল মোদি, অমিত শাহের : ইস্তফা ইয়েড্ডির, সোমবার শপথ কুমারস্বামীর

কর্নাটকে নাক কাটা গেল মোদি, অমিত শাহের : ইস্তফা ইয়েড্ডির, সোমবার শপথ কুমারস্বামীর


ওয়েব সংবাদ : একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বলে ভেবেছিলেন সরকারটা তাঁদেরই হবে। দিল্লিতে বসে ছক কষছিলেন মোদি–অমিত শাহ। নিধিরাম সর্দারের মত ঢাল তরোয়াল ছাড়াই ইয়েদুরাপ্পাকে পাঠিয়েছিলেন যুদ্ধে। ইয়েদুরাপ্পারও পদের লোভে পিছন ফিরে তাকাননি। তাতে যা ফল হল তাকে দেশ হাসানো ছাড়া আর কিছু বলছে না। নিজেদের চাল ফিরে এলো বুমেরাং হয়ে। গোয়া বিহারের তত্ত্ব যে কর্নাটকে কাজ করবে না তা বুঝতে পারেননি বিজেপির সেনাপতি অমিত শাহ। কংগ্রেসও এবার হাল ছাড়েনি। গোয়া আর বিহারের মত একা লড়ার চেয়ে জোট গড়া যে রাজনীতির একটা বড় অস্ত্র সেটা পর পর দুটো নির্বাচনের পর মোক্ষম বুঝেছিলেন সোনিয়া। তাই এবার আর সময় নষ্ট করেননি। ফল পুরো ঘোষণার আগেই জেডিএসের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন গুলাম নবি আজাদ। মুখ্যমন্ত্রীর পদটাও ছেড়ে দিয়েছিলেন সোনিয়া। 
দেবগৌড়া তো ভোটের আগেই বলেছিলেন আমরাই সরকার গড়ব। তখন ভীষণ হাসাহাসি করেছিল বিজেপি। শেষে দেবগৌড়ার সেই কথাই সত্যি হল। ক্ষমতা দখলে রাখতে কংগ্রেসকে জেডিএসের হাত ধরতেই হল। রাজনীতিকদের দাবি কর্নাটক গেরুয়া রাজনীতির বাড়াবাড়িতে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল। মাত্র ৫৩ ঘণ্টা স্থায়ী হল কর্নাটকের বিজেপি সরকার। আস্থা অর্জন করতে পারবে না জেনেই প্রকাশ্যে সেকথা স্বীকার করে পদত্যাগ করলেন বিজেপির শিবরাত্রির সলতে ইয়েদুরাপ্পা। এতে যত না ক্ষতি হল ইয়েদুর তার থেকে অনেক বেশি ক্ষতি হল মোদি, শাহের। কারণ, বিজেপির যাওয়ার শুরুটা বোধহয় এখান থেকেই শুরু হচ্ছে।
বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগেও বিজেপি দাবি করছিল ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন তারা নিশ্চিত করতে পেরেছে। যদিও বিধানসভার অধিবেশনের শুরু থেকেই দু’পক্ষের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বিপরীত ছবি ধরা পড়ছিল। বিধানসভার গ্যালারিতে যখন গুলাম নবি আজাদ, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অশোক গহলৌতের মতো কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতাদের খোশ মেজাজে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে, তখন ইয়েদুরাপ্পা-সহ বিজেপি বিধায়কদের মুখ ছিল যথেষ্টই ম্লান। বিধানসভায় ভাষণ দিতে উঠে ইয়েদুরাপ্পা বলেন, কর্নাটকের মানুষের রায় আমাদের দিকে ছিল। কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট হেরেছে এই নির্বাচনে। কিন্তু তার আগেই বিজেপি বুঝে গিয়েছিল আস্থা ভোটে জেতার সংখ্যা কোনও ভাবেই ‘কিনে ফেলা’ যায়নি। ফলে আস্থাভোটে হার নিশ্চিত বুঝে ইস্তফা দিয়ে দেন ইয়েদুরাপ্পা। 
বিধানসভা থেকে বেরিয়ে সোজা রাজভবনে চলে যান রাজ্যপাল বজুভাই বালার হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দিতে। ইয়েদুরাপ্পার ইস্তফা প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র প্রকাশ জাভড়েকর জানান, গণতন্ত্রেকে সম্মান জানিয়েছেন তিনি। কর্নাটকে শেষমেশ কংগ্রেস-জেডি(এস) জোটের জয় হল। এই জয়ে খুশি এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি টুইট করেন, গণতন্ত্রের জয় হল। অভিনন্দন কর্নাটক। পাশাপাশি তিনি অভিনন্দন জানান, এইচ ডি দেবগৌড়া, কুমারস্বামীকেও। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের দু’দিনের মাথাতেই ইয়েদুরাপ্পাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পরীক্ষায় নামতে হয়েছিল শনিবার। কিন্তু শেষমেশ হাল ছেড়ে দিয়ে রণে ভঙ্গ দেয় তারা। আস্থাভোটের আগে এ দিন সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। 
আস্থাভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে ছবিটা একেবারে বদলে যায়। আরও একটা অডিও টেপ ‘ফাঁস’ করে হইচই ফেলে দেয় কংগ্রেস। কংগ্রেস দাবি করে, তাঁদের বিধায়ক বিসি পাতিলকে টেলিফোনে মন্ত্রিত্বের টোপ দিয়ে কিনতে চেয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা। যদিও বিজেপি সেই দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাত্ করে। শুধু অডিও টেপ প্রকাশই নয়, দুই বিধায়কের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার বিষয়টিও সামনে আনে কংগ্রেস। তারা দাবি করে, দুই বিধায়ক আনন্দ সিংহ এবং প্রতাপ গৌড়া পাতিল ‘নিখোঁজ’ হয়ে গিয়েছে। অভিযোগের আঙুল ওঠে বিজেপির দিকেই। কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, তাদের কয়েক জন বিধায়ককে অপহরণ করেছিল বিজেপি।
সরকার গড়ার দাবি নিয়ে রাজ্যপালের দারস্থ বিরোধীরা, তৈরি নয়া অঙ্ক

সরকার গড়ার দাবি নিয়ে রাজ্যপালের দারস্থ বিরোধীরা, তৈরি নয়া অঙ্ক


ওয়েব সংবাদ : কর্নাটকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিরোধীদের কাছে পৃথক দরজা খুলে দিল। আর তাতেই উৎসাহিত হয়ে গোয়া, বিহার এবং মণিপুরে বিরোধীরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। নেপথ্যে সূত্রটি হল সিঙ্গল লার্জেস্ট পার্টি বা একক বৃহত্তম দল। শুক্রবার গোয়ার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি চিল্লা কুমার সহ–১৩ জন নেতা রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহার সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছেন। এমনকী তাঁরা যে এখানে একক বৃহত্তম দল তা স্মারকলিপি দিয়ে জানিয়ে এসেছেন। এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে দেখাবেন তাঁরা। কর্নাটকে যদি একক বৃহত্তম দল হিসাবে বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে যেখানে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল তাঁদের কেন সুযোগ দেওয়া হবে না বলে রাজ্যপালকে জানিয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র জ্যোতিষ নায়েক। অন্যদিকে কর্নাটকের ফল ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখে এবার বিহারেও সরকার গড়ার দাবি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করল আরজেডি। 
লালুপুত্র তথা প্রাক্তন উপ–মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বলেন, ‘‌কর্নাটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও যদি বিজেপি সরকার গড়তে পারে তাহলে আমরাও তা করতে পারি বিহারে। শুক্রবার দুপুরে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের সঙ্গে দেখা করেন আরজেডির বিধায়করা। কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের ফল ত্রিশঙ্কু। ২২৪ আসনের এই বিধানসভায় ভোটগ্রহণ হয়েছে ২২২টি আসনে। তার মধ্যে ১০৪টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। কিন্তু ১১২টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি তারা। কংগ্রেস পেয়েছে ৭৮টি আসন। আর সরকার গড়ার পক্ষে যে দল সে রাজ্যে কিং মেকারের কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছিল সেই জেডি(এস) পেয়েছে ৩৮টি আসন। তাই আমাদের সুযোগ দেওয়া হলে আস্থাভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে দেবো। আমাদের ১১১টি বিধায়ক রয়েছেই। আর কিছু বিক্ষুব্ধ জেডি(‌ইউ)‌ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে দেওয়া যাবে। তাঁরা নীতীশ কুমারের মত ঘুরে যাবে না।’‌ কে সরকার গড়বে, এই প্রশ্নে যখন জল্পনা চরমে উঠেছে, ঠিক তখনই একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিকে সরকার গড়তে আহ্বান জানান কর্নাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই বালা। আর এখন এই রাস্তাই বুমেরাং হয়েছে বিজেপির কাছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। 
 তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডি, নীতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড এবং কংগ্রেস একজোট হয়ে বিজেপিকে পরাস্ত করেছিল। ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় ১৫১টি আসন পায় মহাজোট। আর বিজেপি পায় ৫৩টি আসন। কংগ্রেসের দখলে ছিল ২৭টি আসন। মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। কিন্তু আরজেডি একাই পায় ৮০ আসন। তখন নীতীশ কুমারের দল পায় ৭১টি আসন। এরপর লালুপ্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর আরজেডির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে জোট ভাঙে নীতীশ। সেই সঙ্গে পুরানো জোটসঙ্গী বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন জোট করে সরকার গড়ে জেডিইউ। এদিন মণিপুরেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যপাল জগদীশ মুখীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সরকার গঠন করার দাবি জানানো হয়েছে। কারণ তারা সেখানে একক বৃহত্তম দল। এই ঘটনাবহুল পরিস্থিতিতে কর্নাটকের ফল নতুন করে পাশা পাল্টে দিতে পারে গোয়া, মণিপুর ও মেঘালয় বিধানসভায়। তাই কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পাকে শপথগ্রহণ করিয়ে রাজ্যপাল বাজুভাই বালা এক নতুন প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দিনের গণনা চলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের জয়জয়কার

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দিনের গণনা চলছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের জয়জয়কার

জেলা পরিষদ (ভোট হয়েছে ৬২১ আসনে)
তৃণমূলবিজেপিবামকংগ্রেসঅন্যান্য
৫৮০২৩


কলকাতা : শুক্রবার দ্বিতীয় দিনেও রাজ্যের নানা জায়গায় চলছে পঞ্চায়েত ভোটের গণনা। ইতিমধ্যেই ৬৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৮৩টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ১৮টি জেলা পরিষদ দখল করেছে তৃণমূল। ভোটের এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত হওয়া ফল অনুযায়ী সবকটি জেলা পরিষদ দখল করছে তৃণমূল। হাওড়া, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ঘাসফুলের দখলে। তবে অল্প লড়াই হয়েছে মালদা এবং পুরুলিয়ায়। উত্তরবঙ্গও তৃণমূলের দখলে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে একচ্ছত্র আধিপত্য শাসকদলের। 
 উত্তরবঙ্গ থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি জমি হারিয়ে আরও সঙ্কটে বামেরা। কোচবিহারে গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিকাংশ আসন তৃণমূলের দখলে। ১৯৬৬টির মধ্যে ভোট হয়েছে ১২৯৫টি আসনে। তৃণমূলের দখলে ১০৪৮টি, বিজেপি ১১৫টি, সিপিএম ৪টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ৮টি, কংগ্রেস ৭টি এবং নির্দল ১১১টি আসনে জয়ী। দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু। কোচবিহার জেলা পরিষদে ৩২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৩১টি আসনে জয়ী, দিনহাটার একটি আসনে জয়ী নির্দল প্রার্থী। জলপাইগুড়ি জেলাতেও ঘাসফুলের দাপট। ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ৬৯টি, বিজেপি পেয়েছে ৫টি ও বামেরা একটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে। ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু। জলপাইগুড়ির ১৯টি জেলা পরিষদ আসনের মধ্যে ১৭টি তৃণমূলের দখলে। 
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের ১৮টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয়ী তৃণমূল। কুমারগ্রামের ১টি আসন দখল করেছে বিজেপি। পঞ্চায়েত সমিতির ১৮৮টি আসনের মধ্যে ১৮১টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূল ১২৩, বিজেপি ৫৫, বামেরা ২ এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয় পেয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার ৬৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৩৬ টি তৃণমূল, ৮টি বিজেপি, বামেদের ১টি এবং কংগ্রেস ১টি আসন দখল করেছে। ত্রিশঙ্কু ১৬টি আসন। তরাই–ডুয়ার্সের চা বাগান বলয়ে খাতা খুলেছে বিজেপি।