Monday, February 19, 2018

লামডিং ন্যাশনাল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে DELED প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন বিধায়ক শিবু মিশ্র

লামডিং ন্যাশনাল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে DELED প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন বিধায়ক শিবু মিশ্র



লামডিং : রবিবার লামডিং ন্যাশনাল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে D. El. Ed প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন বিধায়ক শিবু মিশ্র। কেন্দ্রের উদ্বোধন করে  তিনি বলেন¸ লামডিঙে তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর মধ্যে ৬০ শতাংশ মহিলা। আর মহিলাদের পক্ষ্যে অন্যত্র প্রশিক্ষন নিতে যাওয়া কষ্টকর। তাই তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় তিনি বেজায় খুশি।

তিনি বলেন¸ কোন এক বিরোধি শক্তির বাধার ফলেই লামডিংয়ে প্রশিক্ষন কেন্দ্র স্থাপনে টানাপোড়েন চলছিল। কোন এক অজ্ঞ্যেত কারণে বরাবরই লামডিং কেন্দ্র অবহেলিত হয়ে আসছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে দিসপুর থেকে। এভাবেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন DELED ফ্যাকাল্টি সদস্য সুদীপ দেবরায়। তবে বিধায়কের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতায় দাবিপূরণ হলো। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ￰সুদীপ দত্ত, স্কুল কমিটির সভাপতি সুশান্ত দেশমুখ, সহসভাপতি নকুল পাল, উপপৌরপতি উত্তম দাস, বিধায়ক পত্নী মিরা মিশ্র প্রমুখ। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন রায় সুবীর মজুমদার, সুদীপ দেবরায়, অঞ্জন গোপ, টিঙ্কু দত্ত। ￰তাছাড়া মেন্টর হিসাবে রয়েছেন তনুশ্রী মজুমদার, রীতা দাস, রত্না দত্ত, পাপিয়া দাস, সমীর নাগ প্রমুখ। উপস্থিত শিক্ষকরা বিধায়ককে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন করেন।
বিধানসভায় যুগশঙ্খ সংবাদপত্ৰ গোষ্ঠীর মুখ্য সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ, বিধায়ক শিলাদিত্য দেবের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত

বিধানসভায় যুগশঙ্খ সংবাদপত্ৰ গোষ্ঠীর মুখ্য সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ, বিধায়ক শিলাদিত্য দেবের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত

সোমবারঃ দৈনিক যুগশঙ্খ গোষ্ঠীর মুখ্য সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ দীৰ্ঘদিন বাদ বিধানসভার স্পীকার গ্যালারীতে বসে বিধানসভা কাৰ্য পরিক্ৰমা দেখার পর প্ৰেস লাউন্জে এসে অসুস্থ সাংবাদিক হরেন বুড়াগোহাঞীর খবর নেন, এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলিত হন, সেখানে বিধায়ক শিলাদিত্য দেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়  মুখ্য সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ রাজ্য রাজনীতির খবরা-খবর নেন৷
পেপার মিল নিয়ে মন্ত্রী সত্য লুকোচ্ছে বলে অভিযোগ

পেপার মিল নিয়ে মন্ত্রী সত্য লুকোচ্ছে বলে অভিযোগ

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটীঃ 
রাষ্ট্রায়ত্ত সন্থা হিন্দুস্থান পেপার কর্পোরেশনের অধীন জাগিরােড এবং কাছাড় পেপার মিল প্রায় দুবছর থেকে বন্ধ। দুই পেপার মিলের হাজার চারেক স্থায়ীঅস্থায়ী কর্মচারী দীর্ঘ ১৬ মাস থেকে বেতন ও ভাতা পাচ্ছেনা। কাছাড় পেপার মিলের ২৩ জন শ্রমিক অর্ধাহারে, অনাহারে থেকে, অসুখে ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। আজ জাগিরােড পেপার মিলের বঞ্চিত শ্রমিক ইনাম উদ্দিন আহমেদ মােবাইল টাওয়ারে চড়ে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের চেষ্টায় আহমেদ টাওয়ার থেকে নেমে আসেন। কেন্দ্ৰীয় ডােনার মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং দিল্লীতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, পেপার মিল দুটি বেসরকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। মিল দুটি পিপিপি মডেলের মাধ্যমে চালাবার চেষ্টা করা হবে। কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা দিতে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। দিল্লীর সাংবাদিকরা ডােনার মন্ত্রীর বক্তব্য রেকর্ড করে রেখেছেন বলে দিল্লীর সাংবাদিকরা আজ জানান। আজ দিশপুরে রাজ্যের শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রী চন্দ্রমােহন পাটোয়ারী বলেন, কেন্দ্ৰীয় ডােনার মন্ত্রী পেপার মিল দুটি বেসরকারীকরণ করার কথা আদৌ বলেননি বলে আজই জানিয়েছে। পাটোয়ারী জানান মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়াল প্রধানমন্ত্রীর এবং কেন্দ্রীয় ভারীশিল্প মন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মিল দুটি সরকারই চালাবে। রাজ্য সরকার মিল দুটির বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৩৫ কোটি এবং ৪০ কোটি টাকা রিলিজ করে দিয়েছে। তিনি কর্মচারীদের ধৈৰ্য্য ধরার জন্য বলেছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় ভারীশিল্প মন্ত্রকের এক সূত্ৰথেকে জানা গেছেমিল দুটিকে সাবেক উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলার বর্তমান ডিমা হাসাও জেলার বাঁশের ঠিকাদার আর এস গান্ধীর সংস্থার হাতে মিল দুটি হস্তান্তর করার চেষ্টা চালানাে হচ্ছে। বেসরকারীকরণের চেষ্টা অব্যাহত আছে। কিন্তু কোনাে সংস্থায় মিল দুটির অংশীদার হতে রাজী হচ্ছেনা বলে সূত্রটির দাবী। পেপার মিল নিয়ে মন্ত্রী সত্য লুকোচ্ছেন বলে শ্রমিকরা অভিযােগ করেছে।
শিলচর ষ্টেশন ভাষা শহীদের মৰ্য্যাদা পাচ্ছেনা

শিলচর ষ্টেশন ভাষা শহীদের মৰ্য্যাদা পাচ্ছেনা


গুয়াহাটি, ১৯ ফেব্রুয়ারীঃ বরাক উপত্যকায় ১১ জন যুবক বাংলাভাষা রক্ষায় প্রাণ আহুতি দিয়েছিলেন। ১৯৬১ সালে বাংলাভাষী বরাক উপত্যকায় অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সেখানকার বাঙালীরা তীব্ৰ গণ আন্দোলন গড়ে তােলেন। শিলচর রেলওয়ে ষ্টেশন অবরােধ করার সময় বিনা প্ররােচনায় পুলিশের গুলি চালনায় ফলে ১ জন যুবতী সহ ১১ জন শ্বহীদ হন। সে শ্বহীদের আজ পর্যন্ত সরকারী স্বীকৃতি জানানাে হয়নি। রাজ্যের অর্থ মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শ্বহীদদের স্বীকৃতি জানিয়ে উপযুক্ত মৰ্য্যাদা ও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে, তা আজও পুরণ করা হয়নি। শিলচর রেলওয়ে ষ্টেশনকে ভাষা শ্বহীদ ষ্টেশন হিসেবে গণ্য করার দাবিতে বহু আন্দোলন হয়েছে। সেই দাবিও আজও পুরণ হয়নি। সােমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সােনােয়ালের পক্ষে সংসদীয় পরিক্রমা মন্ত্রী চন্দ্রমােহন পাটোয়ারী কংগ্রেস সদস্য কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের এক প্রশ্নের জবাবে জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক বিভাগ শিলচর রেলওয়ে ষ্টেশনকে ভাষা শহীদ ষ্টেশন হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি জানায়নি। এনওসি দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সংগঠন রাজ্য সরকারের কাছে স্মারক পত্র দিয়ে প্রস্তাবিত নামের বিরােধিতা করেছে। তাই রাজ্য সরকার বিষয়টি পৰ্যালােচনা করে বিভিন্ন জনগােষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার তাগিদে আইন শৃংখলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নামকরণের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখেছে। অসম বিধানসভার উপাধ্যক্ষ তথা শিলচরের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ পাল কিন্তু বলেছিলেন ‘শিলচরের মানুষদের বাংলাভাষার প্রতি অনিহা, তাদের ছেলে-মেয়েরা ইংরেজী বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করায়। তাই শিলচরের মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন হলেই যে কোনও সময় শিলচর রেলওয়ে স্টেশনের নাম ভাষা শ্বহীদ ষ্টেশন হিসাবে রাখা হবে, এক মিনিটও সময় লাগবে না। কিন্তু আজ বিধান সভায় সরকার নামকরণের বিষয়টি স্থগিত রাখার কথায় বলেছে।

Saturday, February 17, 2018

আবার বিদ্যুৎ মাসুল বাড়ছে, ঘরােয়া- ২০ পয়সা, উদ্যোগিক ক্ষেত্রে ৪০ পয়সা

আবার বিদ্যুৎ মাসুল বাড়ছে, ঘরােয়া- ২০ পয়সা, উদ্যোগিক ক্ষেত্রে ৪০ পয়সা

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটীঃ
রাজ্যে নিত্য প্রয়ােজনীয় সামগ্রীর আকাশ সমান মূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি তেল ডিজেল-পেট্রোলের মূল্য বৃদ্ধি, জি,এস,টির দাক্ষিণ্যে জীবনদায়ী ঔষধসহ সব ধরণের ঔষধের মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংকের সুদের ওপর নির্ভরশীল বয়স্ক নাগরিকদের নাজেহাল অৱস্থা। কারণ সুদের হার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমজনতা নাভিশ্বাস উঠছে। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ এল বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৪০ পয়সা করে বৃদ্ধি পাবে। আজ বিদ্যুতের ইউনিট বৃদ্ধি সম্পর্কে খানাপারাড় শুনানি গ্রহণ করা হয়। ছয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই শুনানিতে অংশ গ্রহণ করে পুনরায় বিদ্যুতের ইউনিট বৃদ্ধির প্রতিবাদ করে। কিন্তু রাজ্যের আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঘরােয়া বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিশ পয়সা এবং উদ্যোগিক ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট চল্লিশ পয়সা করে বিদ্যুতের ইউনিট ধার্য করা হবে। বিদ্যু বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, রাজ্যের বিদ্যুত বিতরণের ক্ষেত্রে পরিকাঠামাের অভাব, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুত বিতরণের ক্ষেত্রে যে ধরণের পরিকাঠামাে গড়ে তােলা দরকার তা আর্থিক সংকটের জন্য তা বাস্তবায়িত করা যাচ্ছেনা। এর আগে আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ইলেকট্রিক ডিউটি’রনামে প্রতি ইউনিট চল্লিশ পয়সা করে মাসুল ধার্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিন্তু বিভিন্ন দিক থেকে বাধা আসায় শেষ পর্যন্ত সরাসরি বিশ পয়সা ও চল্লিশ পয়সা করে দুটি স্ল্যাবে বিদ্যুত মাসুল বৃদ্ধি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাবিনেট কমিটির অনুমােদনের পর তা কার্যকরী হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক সূত্র জানান— বর্তমানে বিদ্যুত সরবরাহ ট্রান্সমিশন, ডিস্ট্রিবিউশন, ত্রুটিযুক্ত ট্রান্সফর্মার এবং সর্বোপরি হাইভল্টেজ বিদ্যুত লাইন থেকে হুকিং করে বিদ্যুত টেনে নেওয়া এবং মান্ধাত্তা কালের পুরনাে প্রযুক্তি ব্যৱহারের। ফলে প্রায় সাতাশ শতাংশ বিদ্যুতের অপচয় ঘটছে। অর্থাৎ একশ টাকার মধ্যে সাতাশ পয়সার বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে। আজ খানাপারাড় শুনানি চলাকালীন অনেকে প্রশ্ন তুলেছে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করতে পারলে বিদ্যুতের মাসুল। বৃদ্ধির প্রয়ােজন পড়ত না। তাছাড়া রাজ্যের সরকারি বিভাগ, রাষ্ট্যায়ত্ব সংস্থাগুলিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কোটি। কোটি টাকার অনাদায়ী বিল পড়ে আছে। এইসব ত্রুটি বিচ্যুতি বন্ধ করতে পারলে বিদ্যুতের মাসুল বৃদ্ধির প্রয়ােজন হতাে না। রাজ্য সরকারের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ খুবই কম। বৃহৎ পরিমাণ বিদ্যুৎ বাইরের রাজ্য থেকে চড়া দামে ক্রয় করতে হচ্ছে। নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি ছাড়া রাজ্যের বিদ্যুৎ সমস্যা থেকেই যাবে বলে আজ শুনানি শিবিরে অভিমত পােষণ করা হয়েছে।

Friday, February 16, 2018

শিশু সুরক্ষার ওপর জোর দিলেন রাজ্যপাল জগদীশ মুখী

শিশু সুরক্ষার ওপর জোর দিলেন রাজ্যপাল জগদীশ মুখী

গুয়াহাটিঃ শিশু সুরক্ষায় নিয়ােজিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলাে এবং পুলিশ বিভাগের সহযােগিতায় অনুষ্ঠিত দুদিনব্যাপী কর্মশালায়, শেষ দিনে রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখী বলেন সমাজকে শিশু সুৰক্ষায় পুলিশের সহযােগিতা নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আসাম ষ্টেট কমিশন ফর প্রােটেকশন অফ চাইন্ড রাইটস এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রােটেকশন অফ চাইল্ড রাইটসের যৌথ উদ্যোগে আয়ােজিত এই কর্মশালায় রাজ্যপাল শিশু সুরক্ষার উপর গুরুত্ব আরােপ করে এই কথা বলেন। আজ খানাপাড়া অ্যাডমিনিষ্টেটিভ স্টাফ কলেজের প্রেক্ষাগৃহেরাজ্যপাল বলেন, আসামের ৪১ শতাংশ জনসংখ্যা ০-১৮ বয়সের মধ্যে তাই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা খুবই জরুরি। শিশুদের বিরুদ্ধে হিংসাত্বক ঘটনা এবং যৌন নির্যাতনের অভিযােগগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সচেতন নাগরিকদেরও এই ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। রাজ্যপাল বলেন, ভারতীয় সংবিধানে শিশু সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রােটেকশন অফ চাইল্ড রাইটসের সদস্য সচিব গীতা নারায়ণ এবং আসাম ষ্টেট কমিশন ফর প্রােটেকশন অফ চাইন্ড রাইটসের চেয়ারম্যান ডঃ সুনিতা চাংকাকতি প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন।
বিস্মৃতপ্রায় ‘দাদা ঠাকুরের কন্যা কণিকা দেবী নিরবে চলে গেলেন

বিস্মৃতপ্রায় ‘দাদা ঠাকুরের কন্যা কণিকা দেবী নিরবে চলে গেলেন

বাঙালিদের সােণালী অতীত ক্ৰমশঃ বিস্মৃতির অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি
১৬ ফেব্রুয়ারী: গ্রীষ্মকালের দাবদাহ, ভরদুপুর, রাস্তা ঘাটে জনপ্ৰাণী নেই, ধূলধূসরিত খালি পায়ে মাথায় ছাতা, বগলে এক বাণ্ডিল সাপ্তাহিক ‘জঙ্গিপুর সংবাদ নিয়ে তার নিস্তব্ধ পদচারণ। ইংরাজদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্বক, ব্যঙ্গাত্বক, রসাত্বক সব খবরে ঠাসা ‘জঙ্গিপুর সংবাদ’। ইংরেজ পুলিশরা সেই বৃদ্ধ ভদ্রলােকটিকে বার বার হেনস্থা করতাে। তদানিন্তন কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র সুভাষ চন্দ্র বােস পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বৃদ্ধ ভদ্রলােকটিকে হকারের লাইসেন্স পাইয়ে দিয়েছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর শহরে নিজেই ছিলেন সাপ্তাহিক ‘জঙ্গিপুর সংবাদ’-এর মালিক, কম্পােজার, প্রুফ রিডার, মেশিনমেন এবং অবশ্যই সম্পাদক। পাশথেকে তাকে সাহায্য করতেন পত্নী প্রভাবতী দেবী। সেইসমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী, স্বাধীনতা সংগ্রামীদাদা ঠাকুর ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিতকে আজ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা ভূলেই গেছে। পশ্চিমবাংলার বিশিষ্ট অভিনেতা ছবি বিশ্বাস দাদা ঠাকুরের ভূমিকায় অভিনয় করে জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য, পশ্চিমবংগের বাঙালী সমাজ দাদা ঠাকুরকে অবহেলা, অনাদরেই রেখে দিলেন কোনাে পুরষ্কার দিলেননা।
দাদা ঠাকুরের পাশে বসা বাঁদিকে কন্যা কণিকা
বিদুষক, বােতল পূরাণ, টাকার অস্টতর শতনাম, ভােটামৃত প্রভৃতি ব্যংগ রসাত্বক গ্রন্থ লিখে দাদা ঠাকুর ইংরেজদের বিরুদ্ধে জাগরণ তুলেছিলেন। সেই দাদা ঠাকুরের সাধের জঙ্গিপুর সংবাদ’ একশত বছর পূর্ণ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। রঘুনাথগঞ্জ শহরের মাঝখানে দাদা ঠাকুরের এক প্রতিমূর্তি ছাড়া সব স্মৃতি আজ অতীত, দাদা ঠাকুরের পরিবারের শেষ সন্তান কণিকা রায়ও প্রায় ৯০ বয়সে গত শিৱরাত্রির দিন চলে গেলেন। ২২ দিন আগে তার জ্যোষ্ঠ পুত্ৰ পুলক রায় মারা গেছেন। কণিকা দেবীর স্বামীদেবনাথ রায় আগেই মারা যান। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দী শহরের শিবরামবাটি এলাকায় তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তাদের চার পুত্রের, একজন কাশীনাথ রায় আজ মায়ের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে বলেন, মা ভালাে কবিতা লিখতেন শেষ দিন পর্যন্ত দাদু দাদা ঠাকুরের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে ছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলার গর্ব দাদা ঠাকুরকে আজ আর কেও মনে রাখেনা, পশ্চিবাংলার আত্মকেন্দ্রীক বাঙালীরা তাদের সােণালী অতীত ভুলে কেরিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে উদ্ধঃশ্বাসে দৌড়াচ্ছে কে কাকে টেক্কা দিতে পারে। দাদা ঠাকুরদের মত উজ্জল পুরুষদের স্মৃতি আকড়ে থাকা তাদের কাছে সময়ের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। তাই দাদা ঠাকুরের কণিষ্ঠ কন্যা কণিকা দেবীর মৃত্যুর খবর অগােচরেই থেকে গেল। কেউ জানতেই পারলােনা। বাঙালিদের সােণালী অতীত ক্ৰমশঃ বিস্মৃতির অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।