Wednesday, December 13, 2017

এন আর সি থেকে বাদ পড়বে ৫০লক্ষ সংখ্যালঘু লোকের নাম

এন আর সি থেকে বাদ পড়বে ৫০লক্ষ সংখ্যালঘু লোকের নাম

  • আতংকগ্ৰস্থ, ভয় পাওয়ার কারণ নেই : কবীন্দ্ৰ পুরকায়স্থ 
  • রাজ্যে বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে : সাধন পুরকায়স্থ  
  •  এন আর সিতে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম যদি বাদ দেওয়া হয়, তবে প্রথমে আমার নাম বাদ দিতে হবেঃ বিধায় কমলাক্ষ দে’ পুরকায়স্থ 

গুয়াহাটি : অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জী (এনআরসি)র খসড়া তালিকা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করার জন্য সুপ্রীম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে রাজ্যে জোর কদমে খসড়া প্রস্তুতের কাজ চলছে। এই তালিকায় কাদের নাম থাকবে বা থাকবে না, তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিশেষ করে ভাষিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। বরাক উপত্যকার বিজেপি নেতারা মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল এবং বিজেপি সভাপতি রঞ্জিৎ দাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম যাতে বাদ নাযায়, তা সুনিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষকে এই দেশে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি অবিলম্বে বাস্তবায়িত করার দাবী জানিয়েছেন। 
কেন্দ্রের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা কবীন্দ্র পুরকায়স্থ ‘সংবাদ প্ৰহরী’কে আশ্বাস দিয়ে জানান, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম এন আর সির তালিকায় অন্তৰ্ভুক্ত হবেই। বাঙ্গালি হিন্দু জনগোষ্ঠীর স্বার্থে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল যাতে লোকসভায় পাশ হয়, তার জন্য তারা রাজ্যের বিজেপি সভাপতি ৰঞ্জিৎ দাসের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল শীঘ্রই দিল্লীতে গিয়ে তদবির করবে। শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ হওয়ার আগে যাতে অৰ্ডিন্যান্সের মাধ্যমে তা কার্যকরী করা যায়, তার চেষ্টাও করা হবে। তিনি বলেন, এন আর সি তে প্রথম তালিকায় নাম না থাকলেও ভয়ের কিছু নেই। প্রথম তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে সংশোধনের জন্য ৩-৪বার সময় দেওয়া হবে। 
কিন্তু তার আশ্বাসের বিপরীতে রাজ্যের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি এবং কংগ্রেসের নেতারা এক ভয়ানক ছবি তুলে ধরে অভিযোগ করেছে, রাজ্যে বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছে। প্রায় ৫০লক্ষ হিন্দু-মসলিম মানুষের নাম এন আর সি তালিকা থেকে বাদ যাবে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক প্রধান সাধন পুরকায়স্থ অভিযোগ করেন, শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং অন্যান্যদের সঙ্গে তারা দিল্লীতে রেজিষ্টার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (আর জে আই)র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানে আর জে আই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে ৬(এ) নামে নতুন এক বিশেষ ধারা সংযোজন করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী অসমে এন আর সির কাজ চলছে। এন আর সি-র গোপনীয় নির্দেশক্রমে নাম তোলার যোগ্যতা হিসেবে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রথম শর্ত— ১৯৫১ সালের এন আর সিতে নাম থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত— ১৯৭১সালের ২৪মার্চের মধ্য রাত্রি পর্যন্ত যে কোনও ভোটার তালিকায় নাম থাকা আবশ্যক। উল্লিখিত এই দুই শর্ত পূরণ করা ব্যক্তিরা তাদের বংশধরের যোগসূত্র থাকতে হবে। যে সব ব্যক্তির ১৯৬৬ সালের ১জানুয়ারীর পর এবং ১৯৭১ সালের ২৫মার্চের পূর্বে এ রাজ্যে এসেছে, তাদের নাম এন আর সিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে ফরেন রেজিষ্ট্রেশন রিজিওন্যাল অফিসারে (এফ আর আর ও)র কাছে নাম পঞ্জীভুক্ত করতে হবে। এবং কর্তৃত্বশীল কর্তৃপক্ষ দ্বারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা বিদেশি নয় বলে ঘোষিত হতে হবে। অসমের আদি বাসিন্দাদের ছেলে-মেয়ে, সন্তান-সন্তুতিদের ভারতীয় নাগবিকত্ব পঞ্জীয়ন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় সন্দেহাতিতভাবে প্রতীয়মান হতে হবে। ডি ভোটার দের নাম এন আর সি তে উঠবে না। তবে বিদেশি ট্রাইবুনালে বিদেশি নয় বলে ঘোষণা করার পর তাদের নাম এন আর সি তে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। 
এই শর্তগুলির কথা উল্লেখ করে বরাক উপত্যকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বাধীকার আন্দােলন নিয়ে সরব নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক প্রধান পুরকায়স্থ আশংকা ব্যক্ত করে বলনে, বরাক ব্ৰহ্মপুত্র মিলিয়ে কম পক্ষে ৫০লক্ষ মানুষের নাম এন আর সি থেকে বাদ পড়বে। বাহ্যিকভাবে রাজ্যে এন আর সি খসড়া তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে। তাকে বাহ্যিক নাটক বলে উপহাস করে তিনি বলেন, বিজেপির বাঙ্গালি নেতৃত্ব ছাড়া আসু, অগপ এবং বিজেপির অধিকাংশ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধীতার পথে নেমেছে। বিজেপির বাঙ্গালি নেতৃত্ব যতই দৌড়া-দৌড়ি করুক না কেন নাগরিকত্ব সংশোধনীর বিল কোনো পর্যায়েই পাশ করা সম্ভব হবে না। বরাকের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, শুধু কাছাড় জেলায় ৮,২৭ হাজার নাগরিকের নাম বাদ পড়বে। এবং বৃহত্তর শিলচরের প্রায় ৭০ হাজার লোকের নাম বাদ পড়বে। কাছাড় জেলায় ৪,১১৯,২২১জনের নথি-পত্রে গড়-মিল ধরা পড়েছে। এবং ৪,০৮ হাজার লোকের বংশবৃক্ষের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পঞ্চায়েত সচিবদের ইস্যু করা সাৰ্টিফিকেট সুপ্ৰীম কোর্ট বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়ায় রাজ্যের সংখ্যালঘু মহিলারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। কিন্তু সামগ্রিক চিত্র খুব ভয়ানক। 
কংগ্রেস দলের বিধায়ক কমলাক্ষ দে’ পুরকায়স্থ একইরকম আশংকা প্রকাশ করে বলেন, বরাক উপত্যকায় সংখ্যালঘু মানুষদের মধ্যে ভয়-ভীতির সঞ্চার হয়েছে। কংগ্রেস দল প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম যাতে এন আর সিতে অন্তৰ্ভুক্ত হয়, সে ব্যাপারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। আইনের আশ্রয় নিচ্ছে। কংগ্রেস পরিষদীয় দলের উপনেতা কমলাক্ষ দে’ পুরকায়স্থ বলেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম যদি বাদ দেওয়া হয়, তবে প্রথমে তার নাম এন আর সি থেকে বাদ দিতে হবে। তিনি বলেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সরকার ষড়যন্ত্র করছে।

Tuesday, December 12, 2017

অসমে ফরেনসিক ল্যাবরেটরির সঙ্গে সমন্বয় নেই পুলিশের

অসমে ফরেনসিক ল্যাবরেটরির সঙ্গে সমন্বয় নেই পুলিশের

আসল না নকল, তা পরীক্ষা করার দায়িত্ব ফরেনসিক ল্যাবরেটরির, পুলিশের নয় 


গুয়াহাটি : মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ঘটনার দিক থেকে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবংগ শীর্ষে আছে। তার পরই উত্তর-পূবাঞ্চলরে সাত রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে আছে অসম। রাজ্যের ২০১৬সালের ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৭৭৯ টি। নারী পাচারের সংখ্যা ৮৪টি। কম্পিউটার উদ্ভুত অপরাধজনিত ৫৮২ টি ঘটনা ঘটেছে এবং সাইবার অপরাধের সংখ্যা ৭৬২ টি। কিন্তু অসমে সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের ক্ষেত্রে রাজ্যের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি সন্তোষজনক কাজ করতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। 
কিন্তু ফরেনসিক ল্যাবরেটরির এক সূত্র আজ অভিযোগ করেন, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিকে পরিহার করে পুলিশ যে কোনও ঘটনা প্রকাশ করে দিচ্ছে। তাতে তদন্তে ব্যঘাত ঘটছে। যেমন, গুয়াহাটি রেলওয়ে ষ্টেশনে প্রায় ছয় কোটি টাকার ১৯কেজি সোনা ধরা পড়ল। তার আগের দিন ওই ক্টেশনে ১.৬০ কোটি টাকা ধরা পড়ল। কিন্তু সেই সোনা আসল না নকল, সেই টাকা জাল না। আসল তা পরীক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশের নয়, ফরেনসিক ল্যাবরেটরির। সেইসব বাজেয়াপ্ত বহুমূল্য সামগ্ৰী ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য না পাঠিয়ে পুলিশ নিজ দায়িত্বে ঘোষণা করে দিচ্ছে। তা ঠিক হচ্ছে না। 
একই রকম ঘটনা ঘটেছে মহানগরে এক পেট্রোল পাম্পে ভেজাল তেল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরির পরীক্ষার আগেই ঘোষণা করে দিয়েছে পুলিশ, তেলে ভেজাল আছে।
অষ্ট্ৰেলিয়ার ক্ৰিকেট টীমের বাসে দুস্কৃতিকারীরা ঢিল ছুড়ে কাঁচ ভেঙে দেয়৷ পর সেই সব ভাঙা কাচের অংশটি ভেঙে ফেলে নতুন কাঁচ লাগিয়ে খেলোয়াড়দের বিমান বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হলো। এই ঘটনা সারা বিশ্বে তোলপাড় হলো। সমালোচনার মুখে পড়তে হলো সরকারকে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিকে বলা হলো পৰীক্ষা করার জন্য। ভাঙা কাচের কিছুটুকরো ফরেনসিক ল্যবরেটরির কাছে দাখিল করা হলো। ফরেনসিক ল্যাবরেটরির অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন তুললেন প্রথমে বাসটিতেইট-পাটকেল ছুড়া হয়, তাতে ফুটাে তৈরি হয়েছিল। যেখােন দিয়ে গিয়েইট-পাটকেল অষ্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের গায়ে আঘাত করে, সেই ফুটাের জায়গাটা কোথায় ? তাতো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কারণ নতুন কাঁচ লাগানোর পরে ইট ছুড়ার সব প্রমাণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কি করে প্রমাণ করবে। দুস্কৃতিরা ঢ়িল ছুড়েছিল। 
আজ ১২ ডিসেম্বৰ, ৮ বছরে পড়ল যোগদল হত্যাকাণ্ড। যে হত্যাকান্ডে একই পরিবারের ছয় জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। প্রত্যেকের মাথা থেকে ধড় পৃথক করে দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিবারের কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়। তা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফরেনসিক ল্যাবরেটরি সেই ধর্ষণের প্রমাণ দাখিলের ক্ষেত্রে কিছু গাফিলতি করেছে। সেই পরীক্ষক অবসৰ গ্ৰহণ করেছেন। এখন সেই অবসরপ্রাপ্ত ওফিসারকে তলব করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানান। এই ঘটনার সঙ্গে এক প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে পড়েছে। সেই মারাত্মক হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত দুই পুলিশ অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল বলেছেন, যত বড়ই ব্যক্তি হােক না কেন, দোষী প্রমাণিত হলে গ্রেপ্তার করা হবেই। 
মোবাইলে ব্লু হােয়েল বা নীল তিমির মতো মারাত্মক মোবাইল গেমের জন্য দেশের অনেক যুবক-যুবতীর প্রাণ গেছে। মঙ্গলদৈ অঞ্চলে গত দুমাসে শতাধিক আইফোন বিক্রী হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার টাকার অত্যাধুনিক আইফোন বিক্রী হয়েছে। সেই ফোনে আছে অত্যাধুনিক আ্যাপস “মোবাইল অন মানি”। এই আ্যাপসের সঙ্গে এটিএম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাসবুকের সম্পর্ক আছে। গরীব ঘরের শ্রমজীবি মানুষ এই ফোন কেনার পরই পুলিশের নজর পড়েছে। সূত্রটি জানান, মুম্বাইর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা এই আ্যাপসের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা যুবকদের ঘর থেকে প্রায় ৭০০ এটিএম কার্ড, ব্যাংক পাশবুক প্রভৃতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের দাবী, গত এক মাসে কোটি টাকারও বেশি লেন-দেন হয়েছে। এমন কোনও প্রযুক্তির মাষ্টার মাইন্ড দেশের মধ্যে অসমে সর্বপ্রথম ধরা পড়ল।
হাতির মৃত্যুকে ঘিরে সন্মুখ সমরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ-বন বিভাগ

হাতির মৃত্যুকে ঘিরে সন্মুখ সমরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ-বন বিভাগ


অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : 
রাজ্যের বন বিভাগ শেষ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করল। শোণিতপুর জেলার তেজপুর-বালিপারায় রেল লাইনে গুয়াহাটি-নাহারলাগুন ট্রেনে ধাক্কা খেয়ে এক গাভিনীসহ ছয়টি হাতির করুণ মৃত্যুর জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে বন বিভাগ। বন মন্ত্রী প্রমীলা রাণীব্ৰহ্ম বলেছেন, রেলওয়ে গেটম্যান যদি সতর্ক হয়ে ষ্টেশন মাষ্টারকে আগাম খবরটি জানাতো, তবে ছয়টি হাতির প্রাণ বাঁচানো যেত। 
রাজ্যের বনমন্ত্রী ব্ৰহ্ম বর্তমানে বিশ্বের সব থেকে বেশি হাতির রাষ্ট্র কাম্বোডিয়া সফরে ব্যস্ত। হাতি-মানুষের সংঘাতের প্রকৃত কারণ জানার জন্য বনমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেছেন বলে জানা গেছে। 
আজও সামাগুড়ির গোন্ধালি কাছাড়িতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তাঁরের স্পর্শে দুই হাতির করুণ মৃত্যু ঘটেছে। আজ গোয়ালপাড়া জেলার ধুপধারায় বহু ঘর-বাড়ী হাতি ভাংচুড় করেছে। বাক্সা, বিহালী, নুমুলিগড়, হােজাই প্রভৃতি জায়গা থেকেও হাতিদের ফসল খেতে হানা এবং ঘর-বাড়ী ভাঙার খবর এসেছে। 
গত তিন মাস ৪০ টি হাতির মৃত্যু ঘটলো। গত ১২ বছরে ৮৫৩ টি হাতির মৃত্যু ঘটেছে এবং হাতী-মানুষের সংঘাতে ৮৫৭ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে দ্রুত গতিতে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি বুনো হাতির সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। ২০১১ পশু গণণা অনুযায়ী রাজ্যে ৫,৬২০ টি হাতি আছে। সাড়া দেশের মধ্যে অসমের স্থান শীর্ষে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে ব্যাপক হারে বন ধ্বংস হচ্ছে। রাজ্যের ২৯৬টি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১.৯৭লাখ হেক্টর বনভূমি বেদখল হয়েছে। ২৩টি জাতীয় উদ্যানের ১৪১লাখ হেক্টর জমি বেদখল হয়েছে। ঢেকিয়াজুলির কাছে সোনাই-রূপাই অভয়ারণ্যের ৯০ শতাংশ জমি বেদখল হয়েছে। মজার কথা এই বেদখলকৃত বনাঞ্চলে কয়েকটি সরকারি বিদ্যালয়, এমন কি ভোট কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। 
রাজ্যের বিশিষ্ট হস্তী প্ৰেমীক জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করেছেন, ব্যাপক হারে বন ধ্বংসের ফলে হাতিদের খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দিহিং-পাটকাই অঞ্চলে লবন মিশ্রিত মাটি খাবার জন্য হাতিরা নিয়মিত আসতাে। সেই অঞ্চলে নিমাণ কার্য চলার ফলে খাদ্যের জন্য হাতিরা অন্যান্য লোকালয়ে হামলা করছে। হাতিদের প্রিয় বাঁশ, কলাগাছ প্রভৃতি। ধান ফলনের সময় হাতিদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। তিনি পরামর্শ দিলেন, পরিত্যক্ত সরকারি জলাজমিগুলিতে বছরে দুবার ধান রোপন করার সঙ্গে ব্যাপক হারে বাঁশ এবং কালাগাছ রোপন করা হােক। তা বাস্তবায়িত হলে হাতিরা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দেবেন। তিনি বলেন, ডিব্ৰু-সাইখোয়া বনাঞ্চলে বহু হাতি আছে। সেখানে যথেষ্ট গাছ-গাছরা আছে। যা হাতিদের খাবারের উপযুক্ত। যার ফলে একটি হাতিও বাইরের জনপথে আসে না। তিনি এবং রাজ্যের বিশিষ্ট প্রকৃতি প্রেমী সৌম্যদ্বীপ দত্ত আশংকা ব্যক্তি করেন, হাতিসহ অন্যান্য বন জন্তুর প্রতি মানুষের সহমর্মিতা ও ভালবাসা যদি বজায় না থাকে, তবে এক-ডের দশকের মধ্যে অসমের হাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। 
বনবিভাগের এক মুখপাত্র জানান, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল উত্তর-পূর্বসীমান্ত রেলওয়ের অফিসারদের সঙ্গে এক বৈঠকে হাতিদের রেল লাইনে মৃত্যু প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আজি জানিয়েছিলেন। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থায় গ্রহণ করে নি। 
কিন্তু উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন, হাতিদের কোনও করিডরে রেল লাইন বসানো হয়নি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুরোধ মেনে বন বিভাগ হাতি সংরক্ষণে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। গত দশ বছরে ৮৫৩টি হাতির মধ্যে অধিকাংশ হাতি রেল লাইন পার হতে গিয়ে মারা গেছে। বাকীরা চােরা চিকারি, বিদ্যুৎ স্পর্শ, বিষক্রিয়া প্রভৃতির ফলে প্রাণ হারিয়েছে।

Monday, December 11, 2017

শিলচরের লাইফ লাইন সদরঘাট সেতুর সময়সীমা উত্তীৰ্ণ : জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ

শিলচরের লাইফ লাইন সদরঘাট সেতুর সময়সীমা উত্তীৰ্ণ : জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ


শিলচর : বরাক উপত্যকার ‘লাইফ লাইন’ শিলচরের কুম্ভীৰরগ্ৰাম বিমান বন্দর এবং মনিপুরের সঙ্গে একমাত্ৰ যোগাযোগের মাধ্যম বরাক নদীর ওপর সদরঘাট সেতুপ প্ৰায় ৭৫ বছরের পুরনো৷ তার ব্যবহারের সময়সীমা কবেই উত্তীৰ্ণ হয়ে গেছে৷ ভাঙা-চুরা জীৰ্ণ সেতু নমামি বরাক উৎসবের সময় মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সোনোয়াল ঘোষণা করেছিলেন, বরাক নদীর ওপর আরও তিনটি সেতু নিৰ্মাণ করা হবে৷ 
বৰ্তমান জরাজীৰ্ণ সেতু সম্পৰ্কে শিলচরের বিধায়ক তথা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ দিলীপ পাল জানান, বৰ্তমান সেতুটি সংস্কার করা হচ্ছে৷ পাশা-পাশি নতুন সেতু নিৰ্মাণের কাজ চলছে৷ 
 শিলচরের সদরঘাট সেতুর অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে বলে যাতায়াতে বাড়ছে আশঙ্কা ও ঝুঁকি। অভিযোগ, সেতু সংস্কারের কাজ শম্ভুক গতিতে চলায় নিত্য যাত্রীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে প্রাণ হাতে নিয়ে৷ রাজ্যের অন্যান্য জেলায় যখন গড়ে উঠছে একের পর এক সেতু। তখন বরাকে কেন বিলম্ব। সরকারি দলিল মতে, সদরঘাটের পূর্বতন সেতুর মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিদিনের যাতায়াতের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ তা নিরাপদ যাতায়াত পরিষেবার কথা ভেবে এর পাশেই চলছে প্রস্তাবিত বিকল্প নতুন সেতু নির্মাণের কাজ। 
২০১৫ সাল থেকে চলছে এর নির্মাণ কার্য। তা-ও সম্পন্ন হয়নি পঞ্চাশ শতাংশ। ২০১৮-এর মধ্যেই সেতুটির কাজ সম্পন্নের দাবি তুলেছেন শিলচরের নাগরিকরা। এছাড়া কাছাড় জেলায় আরও দুটি প্রস্তাবিত সেতু অর্ধসমাপ্ত অবস্থায়, বন্ধ রয়েছে কাজ। বরাকের উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই কদিন আগে স্বীকার করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তা সত্ত্বেও কেন যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশে প্রস্তাবিত একাধিক প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে না, উঠেছে এমন প্রশ্নও। সরকারি প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে না, থমকে পড়েছে উন্নয়ন। 
কার সদিচ্ছার অভাবে বিকাশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বরাক। এ নিয়ে জোরদার সমালোচনা জনমহলে। সম্প্রতি দেখা গেছে, নমামি বরাক উৎসবকে কেন্দ্র করে পক্ষকালের মধ্যেই রাস্তা-ঘাটের বেহাল ছবি পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত বছর থেকে সেই সড়কগুলোর দরুন বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জনগণকে।

Sunday, December 10, 2017

তেজপুর-বালিপারায় রেলের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে গাভিনীসহ ৬ হাতির করুণ মৃত্যু

তেজপুর-বালিপারায় রেলের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে গাভিনীসহ ৬ হাতির করুণ মৃত্যু

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করল বন বিভাগ

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি :

হাতি, গন্ডার, বাঘ প্রভৃতি বন্য জন্তুর জন্য বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে অসমের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যে ২৬,৮৩২ বৰ্গকিলোমিটারের বনাঞ্চলে সংরক্ষিত অঞ্চল ৬৬,৫৮ শতাংশ। কাগজে-কলমে ৩৪.২১ শতাংশ হলেও বাস্তবে বনাঞ্চল ক্রমশঃ সংকুচিত হয়ে আসছে, ২০ শতাংশের বেশি হবে না। বন কেটে বসতি স্থাপনের ধুম পড়ে গেছে। ব্যাপকহারে জঙ্গল কাটা হচ্ছে, যা প্রতিরোধ করতে পারছে না বন বিভাগ। ১৯১১ সালের গণনা অনুযায়ী রাজ্যে ৫,৬২০ টি হাতি আছে। হাতিদের যাতায়াতের করিডরগুলি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চলে রেল লাইন গেছে করিডর এলেকাগুলি দিয়ে। ব্যাপকহারে খাদ্য সংকটের ফলে বনের হাতিরা দলে দলে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। মানুষের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। 
রবিবার গভীর রাতে শোণিতপুর জেলার তেজপুর-বালিপারায় রেল লাইন অতিক্রম করতে গিয়ে একটি গাভিনী হাতিসহ ৬টি হাতির করুণ মৃত্যু ঘটেছে। রাত ১ টা নাগাদ গুয়াহাটি-নাহারলাগুন এক্সপ্রেস দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় রেলগাড়ীর চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে করুণভাবে মৃত্যু ঘটে এই ছয়টি হাতির।

শুধু মাত্র আমাকে দোষারোপ করলে হবে না : বন মন্ত্রী প্রমীলা রাণী ব্ৰহ্ম 

রাজ্যের বনমন্ত্রী প্রমীলা রাণী ব্ৰহ্ম এই প্রতিবেদককে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ২ ঝাঁক হাতি রবিবার গভীর রাতে এক চা-বাগান অঞ্চলে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধা পায়। রেলওয়ের গেটম্যানের ঘর ভেঙে দেয়। সেইসময় গেটম্যান যদি সবুজ সংকেত না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ষ্টেশনকে হাতিদের অস্তিত্বর কথা জানাতো, তবে হয়তো হাতিগুলির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটতো না। বনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রচন্ড গতিতে এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাচ্ছিল। চা-বাগানে বেড়া থাকার জন্য হাতিগুলি বাধা পেয়ে রেললাইনের দিকে ঘুরে যায়। তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বে-আইনীভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গায় চা-বাগান গড়ে উঠেছে। তা উচ্ছেদ করা ছাড়া বনাঞ্চলকে রক্ষা করা যাবে না। এ্যালিফেন্ট প্রজেক্ট সম্পর্কে বনমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাপারে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে না। জনগণের মধ্যে বন্য প্রাণী সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে না। উঠলে মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত অব্যাহত থাকবে। শুধু মাত্র বন মন্ত্রীকে দোষারোপ করে লাভ নেই। সবাই আমার দিকেই আঙুল তুলছে।
রাজ্যের চীফ কনজারভেটার অফ ফরেষ্ট (বন্যপ্রাণী) এন কে বাসু বলেন, হাতিগুলি বালিপারা ষ্টেশনের কাছে যখন পৌছিয়ে যায়, তখন রেলওয়ে গেটম্যান গেট বন্ধ করে সবুজ সংকেত দেখানোর জন্য বাইরে বেড়িয়ে পড়েন। গেটম্যান যদি ষ্টেশন মাষ্টারকে হাতি আসা সম্পর্কে আগে জানাতো, তবে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা পরিহার করা যেতো। সি সি এফ বাসু বলেন, ফসলের মরশুমে হাতিদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পায়। ধান খেতে হানা দেয়। রাজ্যের বন বিভাগ হাতিদের প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এইবার হাতিদের দৌরাত্ম বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জঙ্গল ধ্বংসের ফলে হাতিদের খাবারে টান পড়ছে। 
বন দপ্তরের তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১২-১৬ সালের মধ্যে রাজ্যে ১৪০ টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে গহপুর, হােজাই, লামডিং, নুমুলিগড়, তিতাবর প্রভৃতি জায়গায় হাতিদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। নুমুলিগড়ে হাতিদের হানায় এক ব্যক্তি মারাও গেছে। এদিকে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সিনিয়র পাব্লিক রিলেশন অফিসার নৃপেন ভট্টাচার্য দাবী করেন, বালিপারা অঞ্চল, যেখানে হাতিরা হানা দেয়, অঞ্চলটি হাতিদের করিডর ছিল না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ হাতিদের প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। 
বন দপ্তরের উচ্চস্তরীয় এক সূত্র দাবী করেন বালিপারা-তেজপুর অঞ্চলের ৭০ শতাংশ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে। অধিকাংশ অঞ্চলই হাতিদের যাতায়াতের প্রধান করিডর। শিবসাগরের প্রকৃতিপ্ৰেমী আমিনুদ্দিন আহমেদ হাতিদের ভয় দেখিয়ে রেললাইন অতিক্রমে বাধা দেওয়ার জন্য এক প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। মৌ-মাছির গুণগুণ শব্দ লাউড স্পীকারে শুনিয়ে এবং লেজার রশ্মির মাধ্যমে হাতিদের ভয় দেখানোর এক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কথা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। রঙিয়া রেলওয়ে ডিভিশন মৌ-মাছির গুণগুণ শব্দ লাউড স্পীকারের মাধ্যমে হাতিদের শুনিয়ে ভয় দেখাবার এক প্রয়াস গ্রহণ করেছে। গুয়াহাটি মহানগরের উপকণ্ঠে হাতিদের করিডর দীপার বিলে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। রাজ্যের বিশিষ্ট প্রকৃতি প্ৰেমী ডঃ আনােয়ার উদ্দিন চৌধুরী কিন্তু বলেছেন, হাতিদের করিডরের ওপর দিয়ে অধিকাংশ রেললাইন গেছে। করিডরগুলির অধিকাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। মৌ-মাছির হাজার গুণগুণ শব্দ শুনালেও হাতিরা তা শুনবে না৷

Saturday, December 9, 2017

রাজ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই : দায়িত্ব নেবে না কেন্দ্ৰ

রাজ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ছেই : দায়িত্ব নেবে না কেন্দ্ৰ

গুয়াহাটি : কেন্দ্রীয় শক্তিমন্ত্রক দেশের রাজ্যগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে, যেসব রাজ্যে ট্র্যান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন লোকসান ১৫ শতাংশের বেশি হবে, তার আর্থিক দায়ভার সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকেই বহন করতে হবে। দেশের মধ্যে এই লোকসানের পরিমাণ তামিলনাড়ুতে (১০.১৩ শতাংশ) সবথেকে কম হওয়ার বিপরীতে বিহারে (৪৯.২৯ শতাংশ) সবথেকে বেশি। তুলনামূলকভাবে অসমের লোকসানের পরিমান প্রায় ২৬ শতাংশ। তাই কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক দায়ভার গ্রহণ করবে না। রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী পল্লবালোচন দাস আগেই জানিয়েছেন, ইলেকট্রিসিটি ডিউটি হিসেবে ১০ পয়সা করে প্রতি ইউনিটে দাম বৃদ্ধি করা হবে।
গত ৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ২০১৯ সালের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে কোনওভাবে বিদ্যুৎ লোকসান বন্ধের উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাগুলি দুইভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। একটি হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ চুরি, সংবহনজনিত ক্ষতি ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে ভুল মিটার রিডিং, বিল আদায় না হওয়া, পুরনো যন্ত্রাংশ, দীর্ঘদিন রক্ষণা-বেক্ষনের অভাব, মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন, পুরনো সাব-ষ্টেশন, পুরণো পরিকাঠামো প্রভৃতির জন্য বিদ্যুৎ সংস্থাগুলি লোকসানের মুখে পড়েছে। অসমের ক্ষেত্রে লোকসানের অন্যতম কারণ বিভিন্ন হাই ভল্টেজ লাইনগুলি থেকে বে-আইনিভাবে হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরি, বিনা ট্রান্সফর্মারে বিদ্যুৎ ব্যবহার। এছাড়াও ছােট-খাট কোম্পানী এমনকি রাষ্ট্ৰীয়াত্ব সংস্থা এবং সরকারও কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকী রাখে। 
গত ১৫ বছর কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদেনর কোনও প্রকল্পই নির্মাণ করা হয়নি। বিদ্যুৎ মন্ত্রী পল্লব লোচন দাস জানিয়েছেন, রাজ্যের পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ১৬৫০ মেগাওয়াট, সর্বনিম্ন চাহিদা ৮৫০ মেগাওয়াট। যেখানে নিজস্ব উৎপাদন হচ্ছে মাত্র গড়ে ২৭০ মেগাওয়াট। রাজ্যের নােমরাপ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন করে ১১৯ মেগাওয়াট, লাকুয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন করে ১৫৭ মেগাওয়াট, কাবিলাংপি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প উৎপাদন করে ১০০ মেগাওয়াট এবং মিনট্রিয়াং ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প উৎপাদন করে মাত্র ৩ মেগাওয়াট।